কালো জাদু ও জাদু থেকে রক্ষা পেতে করনীয় ও আমল
কালো জাদু ও জাদু থেকে রক্ষা পেতে করনীয় ও আমল
---------------
ড. এ. এস. এম. ইউসুফ জিলানী
-----------------
ইদানীং জাদু, বানটোনা, বশীকরণের প্রবণতা মহামারি আকার ধারণ করেছে। কিছু মুর্খ জাহেল, ভন্ড, প্রতারক জাদু কাটার নামে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে বিশাল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অনেকে হিন্দু, যোগী ও মগের নিকট যায় এগুলো থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য। অথচ একজন মুসলমান এ ধরণের কাজে মুশরিক ও কাফিরের কাছে যাওয়া তাদের শিরক ও কুফরি কাজগুলো সমর্থন করা, বিশ্বাস করা মানে কুফর ও শিরকে লিপ্ত হওয়ার নামান্তর। তাই জাদু কাটার নামে বিধর্মী, কাফির, মুশরিকভন্ডের নিকট না গিয়ে কোন হক্কানি-রাব্বানি আল্লাহওয়ালা আলেমের কাছে যাওয়া উচিত। তবে এ ক্ষেত্রেও কোন ভন্ড ও প্রতারকের কাছে যাওয়া উচিত নয়। অনেকে না বুঝে কালো জাদু কাটানোর নামে বিভিন্ন হয়রানির শিকার হয়। তাদের জন্য এ লেখাটি কাজে আসবে ইনশাল্লাহ। আর আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের আমল নিজে করে উপকৃত হতে পারবে।
কালো জাদু বলতে এমন কিছু কাজ বুঝায়, যেগুলোর মাধ্যমে নিজ স্বার্থ হাছিল কিংবা অন্যের ক্ষতি সাধন করা হয়ে থাকে। যেমন বশীকরণ, বান মারা, জাদু-টোনা ইত্যাদি। এসব কাজকে যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন, তা জাদু হিসাবেই পরিগণিত হবে। জাদু থেকে রক্ষা পেতে করণীয় কিছু আমল এখানে বর্ণনা করা হ’ল।
(১) সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার করে সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করা।
(আবুদাউদ, হাদিস নং, ৫০৮২)।
(২) সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার এই দো‘আটি পাঠ করা- ‘বিসমিল্লা-হিল্লাযী লা-ইয়াযুররু মা‘আসমিহি শাইয়ুন ফিল্ আরদ্বি ওয়া লা ফিসসামা-ই ওয়া হুয়াস সামী‘উল ‘আলীম’ (হাকেম, হাদিস নং-১৯৩৮; আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং-৬৬০)।
(৩) ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা (বুখারী, হাদিস নং-২৩১১)।
(৪) ঘুমানোর পূর্বে সূরা ইখলাছ, ফালাক্ব ও নাস পড়ে হাতে ফুঁক দিয়ে সর্বাঙ্গে হাত বুলানো। এভাবে ৩ বার করা’ (বুখারী হাদিস নং/৫০১৭; সহীহ ইবনু হিববান হাদিস নং-৫৫৪৪)।
(৫) সকাল-সন্ধ্যায় ৩ বার নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করা-
‘আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী, আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম্ঈ আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী’।
(আবুদাউদ হাদিস নং-৫০৯০; আহমাদ, হাদিস নং-২০৪৩০)।
(৬) সকাল-সন্ধ্যায় নিম্নোক্ত দো‘আটি পাঠ করা- ‘আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তাম্মা-তি মিন শাররি মা খালাক্ব’।
(মুসলিম হাদিস নং-২৭০৯, তিরমিযী, হাদিস নং-৩৬০৪)।
(৭) সূরা আল-বাকারার শেষ দুই আয়াত পাঠ করা (বুখারী, হাদিস নং-৫০০৮)।

No comments