কিয়ামের (নামাজে দাঁড়ানোর) সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু দূরত্ব রাখা উচিত?

প্রশ্ন: সম্মানিত আলেম ও ফিকহবিদগণ এই বিষয়ে কী বলেন: কিয়ামের (নামাজে দাঁড়ানোর) সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু দূরত্ব রাখা উচিত? কেউ কেউ দুই পায়ের মাঝখানে অনেক বেশি ফাঁকা রাখেন, আবার কেউ কেউ কম রাখেন। সঠিক পদ্ধতি কী? দয়া করে পথনির্দেশনা দিন।

প্রশ্নকারী: মুহাম্মদ আহমদ (ওকারা)

بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ

উত্তর: সালাত বা নামাজ হলো একটি মহান ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন বান্দা তার রবের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত হয়। আর এ কারণেই সালাতকে মুমিনের মেরাজ বলা হয়েছে। শরীয়ত এই ইবাদতকে পূর্ণ মনোযোগ, খুশু (ভয় ও একাগ্রতা) এবং খুযু (বিনয়) এর সাথে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, নামাজের প্রতিটি রোকন (ফরজ কাজ) আদায়ের এমন পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে যা সর্বোচ্চ আদব বা সম্মান প্রদর্শন করে। 

তাই কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে, এ প্রসঙ্গে হানাফি ফিকহবিদগণ (رحمة اللہ عليهم) বলেছেন যে, দুই পায়ের মাঝখানে চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা সুন্নাত ও মুস্তাহাব। কারণ এভাবে দাঁড়ানোটা অত্যন্ত আদবপূর্ণ এবং এতে অধিক বিনয় প্রকাশ পায়। সুতরাং আমাদের এই অনুযায়ী আমল করা উচিত।

তাছাড়া, এমন দূরত্ব রাখা যা দেখতে অস্বাভাবিক বা দৃষ্টিকটু লাগে, তা আদবের পরিপন্থি। চার ইমামের (ইমাম আযম, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল رحمة اللہ عليهم) কেউই অতিরিক্ত ফাঁকা রাখার মত পোষণ করেন না। ইমাম শাফেয়ি (رحمة اللہ عليه) এক বিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ (رحمة اللہ عليهما) এর মতে মধ্যম পন্থায় ফাঁকা রাখা উচিত। তাই কোনো কারণ ছাড়া দুই পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে।


প্রশ্ন: সম্মানিত আলেম ও ফিকহবিদগণ এই বিষয়ে কী বলেন: কিয়ামের (নামাজে দাঁড়ানোর) সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু দূরত্ব রাখা উচিত? কেউ কেউ দুই পায়ের মাঝখানে অনেক বেশি ফাঁকা রাখেন, আবার কেউ কেউ কম রাখেন। সঠিক পদ্ধতি কী? দয়া করে পথনির্দেশনা দিন। প্রশ্নকারী: মুহাম্মদ আহমদ (ওকারা) بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ উত্তর: সালাত বা নামাজ হলো একটি মহান ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন বান্দা তার রবের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত হয়। আর এ কারণেই সালাতকে মুমিনের মেরাজ বলা হয়েছে। শরীয়ত এই ইবাদতকে পূর্ণ মনোযোগ, খুশু (ভয় ও একাগ্রতা) এবং খুযু (বিনয়) এর সাথে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, নামাজের প্রতিটি রোকন (ফরজ কাজ) আদায়ের এমন পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে যা সর্বোচ্চ আদব বা সম্মান প্রদর্শন করে। তাই কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে, এ প্রসঙ্গে হানাফি ফিকহবিদগণ (رحمة اللہ عليهم) বলেছেন যে, দুই পায়ের মাঝখানে চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা সুন্নাত ও মুস্তাহাব। কারণ এভাবে দাঁড়ানোটা অত্যন্ত আদবপূর্ণ এবং এতে অধিক বিনয় প্রকাশ পায়। সুতরাং আমাদের এই অনুযায়ী আমল করা উচিত। তাছাড়া, এমন দূরত্ব রাখা যা দেখতে অস্বাভাবিক বা দৃষ্টিকটু লাগে, তা আদবের পরিপন্থি। চার ইমামের (ইমাম আযম, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল رحمة اللہ عليهم) কেউই অতিরিক্ত ফাঁকা রাখার মত পোষণ করেন না। ইমাম শাফেয়ি (رحمة اللہ عليه) এক বিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ (رحمة اللہ عليهما) এর মতে মধ্যম পন্থায় ফাঁকা রাখা উচিত। তাই কোনো কারণ ছাড়া দুই পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা বিনয় ও একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করে তাদের সম্পর্কে বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوۡنَ ﴿۱﴾ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ (۲) অনুবাদ (কানযুল ঈমান/ইরফান): নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ: যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত। (পারা ১৮, সূরা মুমিনুন, আয়াত ১-২) নামাজ আদায়কারীকে সঠিক আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন: ان المصلی یناجی ربہ فلینظر ما یناجیہ بہ অনুবাদ: নিঃসন্দেহে নামাজ আদায়কারী তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে, তাই তার খেয়াল রাখা উচিত সে কী বলছে। (মিশকাত আল-মাসাবিহ, নামাজের অধ্যায়, নামাজে কেরাত পাঠ পরিচ্ছেদ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১, করাচি থেকে প্রকাশিত) উপরে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলী কারী হানাফি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১০১৪ হিজরি / ১৬০৫ খ্রি.) লেখেন: ای یحادثہ ویکالمہ وھو کنایۃ عن کمال قربہ المعنوی لان الصلاۃ معراج المومن (মিরকাত আল-মাফাতিহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৫৬, দারুল ফিকর, বৈরুত থেকে প্রকাশিত) কিয়ামের সময় পায়ের অবস্থান সম্পর্কে 'সুনান আবু দাউদ' এ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: عن ‌زرعة بن عبد الرحمن، قال: سمعت ‌ابن الزبير يقول: ‌صف ‌القدمين ووضع اليد على اليد من السنة অনুবাদ: জুরআ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুবায়ের رضي اللہ تعالى عنه কে বলতে শুনেছি: (নামাজে) দুই পা বরাবর রাখা এবং এক হাতের উপর অন্য হাত রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। (সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ১, হাদিস নং ৭৫৪, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া, সাইদা, বৈরুত থেকে প্রকাশিত) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ৮৫৫ হিজরি / ১৪৫১ খ্রি.) লেখেন: وفيه مسألتان، الأولى: ‌صف ‌القدمين في القيام، وعن هذا قال أصحابنا: يستحب للمصلي أن يكون بين قدميه في القيام [قدر] أربع أصابع يديه، لأن هذا أقرب للخشوع অনুবাদ: এই হাদিসে দুটি বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি: কিয়ামে পা বরাবর রাখা। আমাদের আলেমগণ এই সম্পর্কে বলেন যে, নামাজ আদায়কারীর জন্য কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝে হাতের চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা মুস্তাহাব, কারণ এটি বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী। (শারহ সুনান আবি দাউদ লিল-আইনি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫৪, মাকতাবাহ আল-রুশদ, রিয়াদ থেকে প্রকাশিত) একইভাবে 'বিনায়াহ', 'শারহ হিদায়াহ', 'খিজানাতুল মুফতীন', 'ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া' এবং 'মারাকিল ফালাহ' (মারাকিল ফালাহ থেকে উদ্ধৃত) গ্রন্থে উল্লেখ আছে: و"يسن "‌تفريج ‌القدمين في القيام قدر أربع أصابع" لأنه أقرب إلى الخشوع (মারাকিল ফালাহ আলা নুরুল ইযাহ, পৃষ্ঠা ৯৮, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া থেকে প্রকাশিত) আলা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ইমাম আহমদ রেযা খান رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১৩৪০ হিজরি / ১৯২১ খ্রি.) বলেন: অনুবাদ: মাত্র চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা উচিত; এটাই আদব, এটাই সুন্নাত এবং এটাই আমাদের ইমাম আযম رضي اللہ تعالى عنه থেকে বর্ণিত– আমি কোনো মাজহাবের বইতেই এক হাত পরিমাণ ফাঁকা রাখার মত দেখিনি, আর এটিকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যায় না কারণ এটি স্পষ্টতই আদব ও বিনয়ের রীতিনীতির পরিপন্থি। (ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৭, রেযা ফাউন্ডেশন, লাহোর থেকে প্রকাশিত।) নামাজে দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে? এ সম্পর্কে চার ইমামের মতামতের কথা উল্লেখ করে 'আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি' এবং 'আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবাআ' গ্রন্থে (প্রথমটি থেকে উদ্ধৃত) বলা হয়েছে: تفريج القدمين : قال الحنفية: يسن تفريج القدمين في القيام قدر أربع أصابع؛ لأنه أقرب إلى الخشوع وقال الشافعية: يفرق بين القدمين بمقدار شبر، ۔۔۔وقال المالكية والحنابلة: يندب تفريج القدمين، بأن يكون بحالة متوسطة بحيث لايضمهما ولايوسعهما كثيراً حتى يتفاحش عرفاً (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৮১, দারুল ফিকর, সিরিয়া, দামেস্ক থেকে প্রকাশিত) وَ اللہُ اَعْلَمُ عَزَّ وَ جَلَّ وَ رَسُوْلُہ اَعْلَم صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَ اٰلِہٖ وَ سَلَّم (মহান আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন এবং তাঁর রাসূল صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَ اٰلِهٖ وَسَلَّم সবচেয়ে ভালো জানেন।) উত্তরদাতা: মুফতি মুহাম্মদ কাসিম আত্তারী রেফারেন্স নং: OKR-0131 তারিখ: ০৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৭ হিজরি / ৩০ অক্টোবর ২০২৫প্রশ্ন: সম্মানিত আলেম ও ফিকহবিদগণ এই বিষয়ে কী বলেন: কিয়ামের (নামাজে দাঁড়ানোর) সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু দূরত্ব রাখা উচিত? কেউ কেউ দুই পায়ের মাঝখানে অনেক বেশি ফাঁকা রাখেন, আবার কেউ কেউ কম রাখেন। সঠিক পদ্ধতি কী? দয়া করে পথনির্দেশনা দিন। প্রশ্নকারী: মুহাম্মদ আহমদ (ওকারা) بِسْمِ اللہِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ উত্তর: সালাত বা নামাজ হলো একটি মহান ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন বান্দা তার রবের সাথে কথোপকথনে লিপ্ত হয়। আর এ কারণেই সালাতকে মুমিনের মেরাজ বলা হয়েছে। শরীয়ত এই ইবাদতকে পূর্ণ মনোযোগ, খুশু (ভয় ও একাগ্রতা) এবং খুযু (বিনয়) এর সাথে আদায় করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, নামাজের প্রতিটি রোকন (ফরজ কাজ) আদায়ের এমন পদ্ধতি নির্ধারিত রয়েছে যা সর্বোচ্চ আদব বা সম্মান প্রদর্শন করে। তাই কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝখানে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে, এ প্রসঙ্গে হানাফি ফিকহবিদগণ (رحمة اللہ عليهم) বলেছেন যে, দুই পায়ের মাঝখানে চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা সুন্নাত ও মুস্তাহাব। কারণ এভাবে দাঁড়ানোটা অত্যন্ত আদবপূর্ণ এবং এতে অধিক বিনয় প্রকাশ পায়। সুতরাং আমাদের এই অনুযায়ী আমল করা উচিত। তাছাড়া, এমন দূরত্ব রাখা যা দেখতে অস্বাভাবিক বা দৃষ্টিকটু লাগে, তা আদবের পরিপন্থি। চার ইমামের (ইমাম আযম, ইমাম শাফেয়ি, ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল رحمة اللہ عليهم) কেউই অতিরিক্ত ফাঁকা রাখার মত পোষণ করেন না। ইমাম শাফেয়ি (رحمة اللہ عليه) এক বিঘত পরিমাণ ফাঁকা রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। আর ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ (رحمة اللہ عليهما) এর মতে মধ্যম পন্থায় ফাঁকা রাখা উচিত। তাই কোনো কারণ ছাড়া দুই পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁকা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। যারা বিনয় ও একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করে তাদের সম্পর্কে বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা বলেছেন: قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوۡنَ ﴿۱﴾ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ (۲) অনুবাদ (কানযুল ঈমান/ইরফান): নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ: যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত। (পারা ১৮, সূরা মুমিনুন, আয়াত ১-২) নামাজ আদায়কারীকে সঠিক আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন: ان المصلی یناجی ربہ فلینظر ما یناجیہ بہ অনুবাদ: নিঃসন্দেহে নামাজ আদায়কারী তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে, তাই তার খেয়াল রাখা উচিত সে কী বলছে। (মিশকাত আল-মাসাবিহ, নামাজের অধ্যায়, নামাজে কেরাত পাঠ পরিচ্ছেদ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১, করাচি থেকে প্রকাশিত) উপরে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলী কারী হানাফি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১০১৪ হিজরি / ১৬০৫ খ্রি.) লেখেন: ای یحادثہ ویکالمہ وھو کنایۃ عن کمال قربہ المعنوی لان الصلاۃ معراج المومن (মিরকাত আল-মাফাতিহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৫৬, দারুল ফিকর, বৈরুত থেকে প্রকাশিত) কিয়ামের সময় পায়ের অবস্থান সম্পর্কে 'সুনান আবু দাউদ' এ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে: عن ‌زرعة بن عبد الرحمن، قال: سمعت ‌ابن الزبير يقول: ‌صف ‌القدمين ووضع اليد على اليد من السنة অনুবাদ: জুরআ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুবায়ের رضي اللہ تعالى عنه কে বলতে শুনেছি: (নামাজে) দুই পা বরাবর রাখা এবং এক হাতের উপর অন্য হাত রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। (সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ১, হাদিস নং ৭৫৪, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া, সাইদা, বৈরুত থেকে প্রকাশিত) এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ৮৫৫ হিজরি / ১৪৫১ খ্রি.) লেখেন: وفيه مسألتان، الأولى: ‌صف ‌القدمين في القيام، وعن هذا قال أصحابنا: يستحب للمصلي أن يكون بين قدميه في القيام [قدر] أربع أصابع يديه، لأن هذا أقرب للخشوع অনুবাদ: এই হাদিসে দুটি বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি: কিয়ামে পা বরাবর রাখা। আমাদের আলেমগণ এই সম্পর্কে বলেন যে, নামাজ আদায়কারীর জন্য কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝে হাতের চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা মুস্তাহাব, কারণ এটি বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী। (শারহ সুনান আবি দাউদ লিল-আইনি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫৪, মাকতাবাহ আল-রুশদ, রিয়াদ থেকে প্রকাশিত) একইভাবে 'বিনায়াহ', 'শারহ হিদায়াহ', 'খিজানাতুল মুফতীন', 'ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া' এবং 'মারাকিল ফালাহ' (মারাকিল ফালাহ থেকে উদ্ধৃত) গ্রন্থে উল্লেখ আছে: و"يسن "‌تفريج ‌القدمين في القيام قدر أربع أصابع" لأنه أقرب إلى الخشوع (মারাকিল ফালাহ আলা নুরুল ইযাহ, পৃষ্ঠা ৯৮, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া থেকে প্রকাশিত) আলা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ইমাম আহমদ রেযা খান رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১৩৪০ হিজরি / ১৯২১ খ্রি.) বলেন: অনুবাদ: মাত্র চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা উচিত; এটাই আদব, এটাই সুন্নাত এবং এটাই আমাদের ইমাম আযম رضي اللہ تعالى عنه থেকে বর্ণিত– আমি কোনো মাজহাবের বইতেই এক হাত পরিমাণ ফাঁকা রাখার মত দেখিনি, আর এটিকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যায় না কারণ এটি স্পষ্টতই আদব ও বিনয়ের রীতিনীতির পরিপন্থি। (ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৭, রেযা ফাউন্ডেশন, লাহোর থেকে প্রকাশিত।) নামাজে দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে? এ সম্পর্কে চার ইমামের মতামতের কথা উল্লেখ করে 'আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি' এবং 'আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবাআ' গ্রন্থে (প্রথমটি থেকে উদ্ধৃত) বলা হয়েছে: تفريج القدمين : قال الحنفية: يسن تفريج القدمين في القيام قدر أربع أصابع؛ لأنه أقرب إلى الخشوع وقال الشافعية: يفرق بين القدمين بمقدار شبر، ۔۔۔وقال المالكية والحنابلة: يندب تفريج القدمين، بأن يكون بحالة متوسطة بحيث لايضمهما ولايوسعهما كثيراً حتى يتفاحش عرفاً (আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৮১, দারুল ফিকর, সিরিয়া, দামেস্ক থেকে প্রকাশিত) وَ اللہُ اَعْلَمُ عَزَّ وَ جَلَّ وَ رَسُوْلُہ اَعْلَم صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَ اٰلِہٖ وَ سَلَّم (মহান আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন এবং তাঁর রাসূল صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَ اٰلِهٖ وَسَلَّم সবচেয়ে ভালো জানেন।) উত্তরদাতা: মুফতি মুহাম্মদ কাসিম আত্তারী রেফারেন্স নং: OKR-0131 তারিখ: ০৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৭ হিজরি / ৩০ অক্টোবর ২০২৫
যারা বিনয় ও একাগ্রতার সাথে নামাজ আদায় করে তাদের সম্পর্কে বিশ্বজগতের স্রষ্টা আল্লাহ তাআলা বলেছেন:

قَدْ اَفْلَحَ الْمُؤْمِنُوۡنَ ﴿۱﴾ الَّذِیْنَ هُمْ فِیْ صَلَاتِهِمْ خٰشِعُوْنَ (۲)
অনুবাদ (কানযুল ঈমান/ইরফান): নিশ্চয়ই সফলকাম হয়েছে মুমিনগণ: যারা নিজেদের নামাজে বিনয়াবনত। (পারা ১৮, সূরা মুমিনুন, আয়াত ১-২)

নামাজ আদায়কারীকে সঠিক আদব শিক্ষা দিতে গিয়ে আল্লাহর রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন:

ان المصلی یناجی ربہ فلینظر ما یناجیہ بہ
অনুবাদ: নিঃসন্দেহে নামাজ আদায়কারী তার রবের সাথে একান্তে কথা বলে, তাই তার খেয়াল রাখা উচিত সে কী বলছে। (মিশকাত আল-মাসাবিহ, নামাজের অধ্যায়, নামাজে কেরাত পাঠ পরিচ্ছেদ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮১, করাচি থেকে প্রকাশিত)

উপরে উল্লেখিত হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা আলী কারী হানাফি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১০১৪ হিজরি / ১৬০৫ খ্রি.) লেখেন:

ای یحادثہ ویکالمہ وھو کنایۃ عن کمال قربہ المعنوی لان الصلاۃ معراج المومن
(মিরকাত আল-মাফাতিহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৫৬, দারুল ফিকর, বৈরুত থেকে প্রকাশিত)

কিয়ামের সময় পায়ের অবস্থান সম্পর্কে 'সুনান আবু দাউদ' এ একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে:

عن ‌زرعة بن عبد الرحمن، قال: سمعت ‌ابن الزبير يقول: ‌صف ‌القدمين ووضع اليد على اليد من السنة
অনুবাদ: জুরআ বিন আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি ইবনে জুবায়ের رضي اللہ تعالى عنه কে বলতে শুনেছি: (নামাজে) দুই পা বরাবর রাখা এবং এক হাতের উপর অন্য হাত রাখা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। (সুনান আবু দাউদ, খণ্ড ১, হাদিস নং ৭৫৪, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া, সাইদা, বৈরুত থেকে প্রকাশিত)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আল্লামা বদরুদ্দীন আইনি رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ৮৫৫ হিজরি / ১৪৫১ খ্রি.) লেখেন:

وفيه مسألتان، الأولى: ‌صف ‌القدمين في القيام، وعن هذا قال أصحابنا: يستحب للمصلي أن يكون بين قدميه في القيام [قدر] أربع أصابع يديه، لأن هذا أقرب للخشوع
অনুবাদ: এই হাদিসে দুটি বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমটি: কিয়ামে পা বরাবর রাখা। আমাদের আলেমগণ এই সম্পর্কে বলেন যে, নামাজ আদায়কারীর জন্য কিয়ামের সময় দুই পায়ের মাঝে হাতের চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা মুস্তাহাব, কারণ এটি বিনয়ের অধিক নিকটবর্তী। (শারহ সুনান আবি দাউদ লিল-আইনি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫৪, মাকতাবাহ আল-রুশদ, রিয়াদ থেকে প্রকাশিত)

একইভাবে 'বিনায়াহ', 'শারহ হিদায়াহ', 'খিজানাতুল মুফতীন', 'ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া' এবং 'মারাকিল ফালাহ' (মারাকিল ফালাহ থেকে উদ্ধৃত) গ্রন্থে উল্লেখ আছে:

و"يسن "‌تفريج ‌القدمين في القيام قدر أربع أصابع" لأنه أقرب إلى الخشوع
(মারাকিল ফালাহ আলা নুরুল ইযাহ, পৃষ্ঠা ৯৮, আল-মাকতাবাহ আল-আসরিয়া থেকে প্রকাশিত)

আলা হযরত, ইমামে আহলে সুন্নাত, ইমাম আহমদ রেযা খান رحمة اللہ تعالى عليه (ইন্তেকাল: ১৩৪০ হিজরি / ১৯২১ খ্রি.) বলেন:

অনুবাদ: মাত্র চার আঙুল পরিমাণ দূরত্ব রাখা উচিত; এটাই আদব, এটাই সুন্নাত এবং এটাই আমাদের ইমাম আযম رضي اللہ تعالى عنه থেকে বর্ণিত– আমি কোনো মাজহাবের বইতেই এক হাত পরিমাণ ফাঁকা রাখার মত দেখিনি, আর এটিকে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বলা যায় না কারণ এটি স্পষ্টতই আদব ও বিনয়ের রীতিনীতির পরিপন্থি। (ফতোয়ায়ে রযবিয়্যাহ, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ১৫৫-১৫৭, রেযা ফাউন্ডেশন, লাহোর থেকে প্রকাশিত।)

নামাজে দুই পায়ের মাঝে কতটুকু ফাঁকা রাখতে হবে? এ সম্পর্কে চার ইমামের মতামতের কথা উল্লেখ করে 'আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি' এবং 'আল-ফিকহ আলা মাজাহিবিল আরবাআ' গ্রন্থে (প্রথমটি থেকে উদ্ধৃত) বলা হয়েছে:

تفريج القدمين : قال الحنفية: يسن تفريج القدمين في القيام قدر أربع أصابع؛ لأنه أقرب إلى الخشوع وقال الشافعية: يفرق بين القدمين بمقدار شبر، ۔۔۔وقال المالكية والحنابلة: يندب تفريج القدمين، بأن يكون بحالة متوسطة بحيث لايضمهما ولايوسعهما كثيراً حتى يتفاحش عرفاً
(আল-ফিকহুল ইসলামি ওয়া আদিল্লাতিহি, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮৮১, দারুল ফিকর, সিরিয়া, দামেস্ক থেকে প্রকাশিত)

وَ اللہُ اَعْلَمُ عَزَّ وَ جَلَّ وَ رَسُوْلُہ اَعْلَم صَلَّی اللہُ تَعَالٰی عَلَیْہِ وَ اٰلِہٖ وَ سَلَّم
(মহান আল্লাহ সবচেয়ে ভালো জানেন এবং তাঁর রাসূল صَلَّی اللہُ عَلَیْہِ وَ اٰلِهٖ وَسَلَّم সবচেয়ে ভালো জানেন।)

উত্তরদাতা: মুফতি মুহাম্মদ কাসিম আত্তারী
রেফারেন্স নং: OKR-0131
তারিখ: ০৭ জুমাদাল উলা ১৪৪৭ হিজরি / ৩০ অক্টোবর ২০২৫

No comments

Powered by Blogger.